You are hereবইপত্র / ফায়ারওয়াল

ফায়ারওয়াল


ফায়ারওয়াল হলো প্রাইভেট নেটওয়ার্ক ও পাবলিক নেটওয়ার্কের মধ্যস্থিত একটি কম্পিউটার যা এই দুই নেটওয়ার্কের মধ্যে প্রবাহিত ডাটা যাচাই করে দেখে। এই ফায়ারওয়াল মেশিনকে কিছু নিয়ম দিয়ে কনফিগার করা হয় যার মাধ্যমে নির্ধারিত হয় কোন কোন ট্রাফিক বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে ঢুকতে পারবে এবং কোনগুলি অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক থেকে বাইরের নেটওয়ার্কে যেতে পারবে। কোনো কোনো বৃহৎ সংস্থা তাদের নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশকে ভিন্ন করার জন্যও ফায়ারওয়াল ব্যবহার করে থাকে। যেমন একাউন্টিং ডিপার্টমেন্টের ডাটা যাতে অন্য ডিপার্টমেন্টের কেউ দেখতে না পারে সেজন্য ফায়ারওয়াল ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিভিন্নভাবে ফায়ারওয়াল তৈরি করা যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত পদ্ধতি হলো কিছু কম্পিউটারের সমন্বয় যা পেরিমিটার নেটওয়ার্ক নামে পরিচিত। দুটি মেশিন ফিল্টার হিসেবে কাজ করে এবং এগুলির মাঝে থাকে সার্ভার কম্পিউটারসমূহ, যেমন ই-মেইল গেটওয়ে, প্রক্সি সার্ভার, ইত্যাদি। এই কনফিগারেশন আপনি বিভিন্ন নিয়ম নির্ধারণ করে দিতে পারেন। এখানে বলে দিতে পারেন কোন কোন ইউজার বাইরের নেটওয়ার্ক থেকে অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে ঢুকতে পারবে, কোন কোন সার্ভিসের সাথে যুক্ত হতে পারবে এবং কোন কোন অভ্যন্তরীণ ইউজার বাইরের নেটওয়ার্কে যুক্ত হতে পারবে।
সাধারণত একটি মেশিনকেই ফায়ারওয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তেব কোন কোনো ক্ষেত্রে একাধিক মেশিনকে ফায়ারওয়াল হিসেবে ব্যবহার করা হয়ে থাকে। একটি মেশিনকে ফায়ারওয়াল হিসেবে ব্যবহারের অসুবিধা হলো এই যে ওই কম্পিউটারকে দখল করা গেলে পুরো নেটওয়ার্কের নিরাপত্তা ভাঙা যাবে। এর পরিবর্তে একাধিক কম্পিউটার ব্যবহার করা হলে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কিছুটা শক্ত হবে।
ইন্টারনেটে সংযোগ গড়ার সময় অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্ক  ও ইন্টারনেটের মধ্যবর্তী স্থানে একটি ফায়ারওয়াল বসিয়ে দেয়া হয়। এই ফায়ারওয়াল বহিস্থ নেটওয়ার্ক ও অভ্যন্তরস্থ নেটওয়ার্কের মধ্যে সীমারেখা টেনে দেয়।এই সংযোগ একটিমাত্র কম্পিউটার কিংবা একাধিক কম্পিউটার নিয়ে হতে পারে (চিত্র  )। সহজভাবে বলতে গেলে ফায়ারওয়ালের কাজ হলো বাইরে থেকে অভ্যন্তরীন নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্যে আসা ট্রাফিক যাচাই করে দেখা। যেসব ট্রাফিককে অভ্যন্তরীন নেটওয়ার্কে প্রবেশের অনুমোদন দেয়া হয়েছে কেবল সেসবই ফায়ারওয়ালের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কে প্রবেশ করতে পারবে।
ফায়ারওয়াল ব্যবহার করবেন কি না তা নির্ধারনের আগে আপনাকে জানতে হবে আপনি কী রক্ষা করতে চান। আপনি যদি নেটওয়ার্কের গুরুত্বপূর্ণ  ও সংবেদনশীল তথ্য রক্ষা করতে চান এবং আপনার কম্পিউটার বা নেটওয়ার্ক ইন্টারনেটে যুক্ত থাকে তাহলে ফায়ারওয়াল ব্যবহার করে নিরাপত্তা সুবিধা পেতে পারেন।  ফায়ারওয়াল কীভাবে কাজ করে এবং কোন কোন নীতির উপর ভিত্তি করে এটি নিরাপত্তা সুবিধা দেয় সে সম্পর্কে জানতে পারবেন এ পুস্তকে। তবে মনে রাখা দরকার যে কোনো নির্দিষ্ট ফায়ারওয়াল সফটওয়্যার কীভাবে ব্যবহার করা হয় সে সম্পর্কে শিক্ষাদান করা এই পুস্তকের লক্ষ্য নয়। এই পুস্তকটি লেখা হয়েছে ফায়ারওয়াল সম্পর্কে আপনার ধারণা পরিষ্কার করার জন্য। এখানে বিভিন্ন ধরনের ফায়ারওয়াল সম্পর্কে বলা হয়েছে, কোনটি কখন ব্যবহার করতে হবে, কোনটি কী সুবিধা দেয় তাও বলা হয়েছে। এসব তথ্যের উপর ভিত্তি করে আপনি নেটওয়ার্কের জন্য উপযুক্ত ফায়ারওয়াল বেছে নিতে পারবেন।
আপনি যদি নেটওয়ার্কে ফায়ারওয়াল সেটআপ করতে আগ্রহী হোন তাহলে এ পুস্তক থেকে শেখা ধারণা ও নীতিসমূহ আপনাকে যথেষ্ট সাহায্য করবে। বস্তুত এসব ধারণা ছাড়া কোনো ফায়ারওয়াল ব্যবহার করতে না যাওয়াই উত্তম।
এ অধ্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে ফায়ারওয়াল কী এবং সেটি প্রাইভেট ও পাবলিক নেটওয়ার্কের মধ্যে কীভাবে একটি পাহারাদার হিসেবে কাজ করে। এরকম ফায়ারওয়াল ব্যবহারের কারণ হলো যাতে বাইরের কোনো প্রোগ্রামে অভ্যন্তরীণ নেটওয়ার্কের কোনো ক্ষতি করতে না পারে কিংবা অভ্যন্তরীন কোনো কম্পিউটার বিনা অনুমোদনে বাইরের কোনো কম্পিউটার কিংবা প্রোগ্রামের সাথে যোগাযোগ করতে না পারে।



Languages

Flickr random photos

slum childrenCoxsBazar 053Sanchita 5NFEMISConsultativeWS2Sanchita 1CoxsBazar 053CoxsBazar 011

Syndicate

Syndicate content