You are hereBlogs / suhreed এর ব্লগ / নাস্তিকের মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ........................... ভুমিকা
নাস্তিকের মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ........................... ভুমিকা
নাস্তিকের মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ.............
নাস্তিকতাবাদ একটি মতবাদ । এই মতবাদের মূলমন্ত্র হলো, "ঈশ্বর বলতে কিছু নেই"। আর এই মতবাদের অনুসারিদেরকেই নাস্তিক বলা হ্য়।যেহেতু এক এক ধর্মে ঈশ্বরের স্বরুপ এক এক রকম, সেহেতু কোন একটি বিশেষ ধর্মের ঈশ্বরকে অস্বীকার করলেই তাকে নাস্তিক বলা যাবেনা। সেইই নাস্তিক যে কোন ধর্মের কোন ধরনের ঈশ্বরের অস্হিত্বকেই বিশ্বাস করেনা।সুতারাং নাস্তিকতাবাদকে পুরোপুরি বুঝতে হলে সব ধর্মের ঈশ্বরের স্বরুপ সম্ধন্ধে প্রাথমিক ধারনা থাকা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যে আমি উল্লেখযোগ্য কিছু ধর্মের ঈশ্বরের স্বরুপ সম্ধন্ধে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করবো।হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের স্বরুপ :ঐতিহাসিক দিক দিয়ে হিন্দু ধর্ম পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন ধর্ম, এজন্য একে সনাতন ধর্মও বলা হয়। এই সনাতন ধর্মের ব্যাপারে হিন্দু ধর্মের বিশিষ্ট পন্ডিত ডাঃ এন.সি.বোস তার কোরআন, বাইবেল, বেদ ও বিজ্ঞান বইতে বলেছেন, "বিভিন্ন ধর্মের তুলনামূলক বইয়ের জনৈক লেখক সনাতন ধর্মের মন্তব্যে লিখিয়াছেন, ইহা একটি অবৈজ্ঞানিক ধর্ম। এই মন্তব্যে জবাবে বলা যায় সনাতন ধর্ম একটি সমুদ্র বিশেষ ইহা থেকে কোন সিদ্ধান্ত বাহির করা অত্যন্ত কঠিন " [পৃঃ ১১]হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের স্বরুপ ব্যাখ্যা করা সত্যি অত্যন্ত কঠিন ব্যাপার। সহজ কথায় বলা যায় হিন্দু গ্রন্থ মতে ঈশ্বর নিরাকার, এক ও অদ্বিতীয়। উনার কোন ছবি, প্রতিরুপ, মূর্তি বা প্রতিমা নেই। অজাত, অবিনশ্বর ও সর্বশক্তিমান। [যজুর্বেদ : ৩২:৩, ৪০:৮, ],[যজুর্বেদ দেবী চান্দ কর্তৃক অনুবাদকৃত পৃঃ ৩৭৭], [অথর্ববেদ: ২০ ৫৮:৩], [ঋক্বেদ: ১:১৬৪:৪৬]যদিও সাকার ঈশ্বরের উপাসনা হিন্দু গ্রন্থ মতের বিরোধী তবুও প্রায় সমস্ত হিন্দু সমাজ (ব্রাক্ষ্ম সমাজ ব্যতীত) সাকার ঈশ্বরেরই উপাসনা করে। হিন্দুরা ব্রক্ষ্মা (সৃষ্টিকর্তা), বিষ্ণু (পালনকর্তা) ও শিবা (প্রলয়কারী) এই তিন ঈশ্বরের পূজা করে থাকে। নিম্নে এদের সংক্ষিপ্ত বিবরন দেওয়া হলো,ভগবান ব্রক্ষ্মা একটি পদ্মফুলের উপর আসন পেতে বসে আছেন। তার ৪টি করে মাথা ও হাত। উনি বাহন হিসাবে রাজহাসের উপর চড়ে চলাচল করেন। স্বরস্বতী, বিদ্যার দেবী উনার অর্ধাঙ্গিনী।ভগবান বিষ্ণু একমাথা ও চার হাত বিশিষ্ট ঈশ্বর। উনার বাহন গারুদা নামক এক প্রকারের ঈগলের মত পাখি। উনি মানবজাতীর ক্রান্তিকালে যুগে যুগে মানুষরুপে অথবা জন্তুরুপে অথবা জন্তুমানবরুপে পৃথিবীতে অবতরন করেন। তিনি সর্বমোট দশবার অবতরন করবেন যার মধ্যে হিন্দু পন্ডিতদের মতে ইতোমধ্যে নয়বার অবতরন করেছেন। পরশুরাম, রামা, কৃষ্ণা, বুদ্ধা এদের সবাইকে ভগবান বিষ্ণুর অবতার মনে করা হয়। লক্ষী ভালোবাস, সৌন্দর্য্য ও আনন্দের দেবী উনার অর্ধাঙ্গিনী।ভগবান শিবা গলায় একটি বৃহৎ সাপ পেঁচিয়ে যোগাসনে বসে আছেন।উনার জটাবাধা চুল থেকে গঙ্গা নদীর উৎপত্তি বলে মনে করা হয়। নন্দী নামের একটি ষাঁড় উনার বাহন। শিব মন্দিরে ভগবান শিব থেকে শিবলিঙ্গের কদর বেশি। শিবপূজা বলতে সাধারনত শিবলিঙ্গের পূজায় বুঝায়।আপাতঃদৃষ্টিতে এই হলো হিন্দু ধর্মে ঈশ্বরের স্বরুপ।
নাস্তিকের মনস্তাত্ত্বিক ব্যবচ্ছেদ........................... ভুমিকা
নাস্তিকতাও একটি ধর্ম। আস্তিকরা বিশ্বাস করে কোনো বিশেষ ঈশ্বরে, আর নাস্তিকরা বিশ্বাস করে 'নাই' ঈশ্বরে। দুপক্ষই সমানভাবে বিশ্বাসী। আস্তিকরা যেমন ঈশ্বর আছেন প্রমাণ করতে পারেন, তেমনি পারেন নাস্তিকরা। বলা বাহুল্য, উভয় পক্ষের যুক্তিই আসলে বিশ্বাস নির্ভর। দুপক্ষের এই অর্থহীন বিতর্ক চলবেই। কাজের লোকরা এটি বাদ দিয়ে অন্য কিছু নিয়ে ব্যস্ত থাকে। কেউ যদি ঈশ্বরে বিশ্বাস করে সুখী হয় হোক না কেন? আপনি যদি 'নাই' ঈশ্বরে বিশ্বাসী হোন তাহলে আপনার বিশ্বাস নিয়েই থাকুন। অযথা সব ধর্মের ব্যবচ্ছেদ করার কী দরকার?









